Menu

বাংলাভাষায় পাখিচর্চা (একটি সংকলন প্রয়াস)

₹200
Environment Enthusiasm

বাংলাভাষায় পাখিচর্চা (একটি সংকলন প্রয়াস)

Product details

ডা. কনাদ বৈদ্য, দীপককুমার দাঁ

পেপেরব্যাক

৯৬ পাতা

গোবরডাঙা গবেষণা পরিষৎ

বাংলার আকাশ আর তার ডানার ঝাপটানি নিয়ে বাঙালির অনুরাগের গল্পটি আজ থেকে প্রায় দুশো বছর আগের। সেই ১৮০০ সাল, যখন শ্রীরামপুরের মিশনারিরা প্রথম ছাপার হরফে আধুনিক বিজ্ঞানের বীজ বুনেছিলেন, তখন থেকেই শুরু হয়েছিল এক দীর্ঘ এবং রোমাঞ্চকর পথচলা। তবে বাঙালির পাখি ভালোবাসা আর বাংলা ভাষায় পাখির চর্চা—দুটো কিন্তু এক নয়। খাঁচায় পাখি পোষা, শখের পক্ষীদর্শন কিংবা ইংরেজি ভাষায় গালভরা গবেষণাপত্র লেখা এক জিনিস; আর বাংলা ভাষার নিজস্ব সাহিত্য ও সাময়িকীর পাতায় পাখির জগতকে নথিবদ্ধ করা সম্পূর্ণ অন্য এক সাধনা। এই বইটি মূলত সেই দ্বিতীয় ধারার এক আশ্চর্য আখ্যান, যা ১৮০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ একুশ দশকের ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে এক অনন্য তালিকা উপহার দিয়েছে।

এই গল্পের মূল পটভূমি গোবরডাঙা গবেষণা পরিষদের সেই শান্ত লাইব্রেরি, যেখানে তাকে তাকে সাজানো রয়েছে পুরনো বিজ্ঞান পত্রিকা আর দুষ্প্রাপ্য বইয়ের সম্ভার। ২০১৩ সালের এক শীতের বিকেলে যখন একদল পক্ষীপ্রেমী ড. সত্যচরণ লাহা আর অজয় হোমের মতো কিংবদন্তিদের জন্মজয়ন্তী পালনে সমবেত হয়েছিলেন, তখনই দানা বেঁধেছিল এই সংকলনের ভাবনা। সেই আড্ডায় উঠে এসেছিল এক আক্ষেপের কথা—বাংলায় পাখি নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হলেও তার সঠিক কোনো হদিশ আমাদের কাছে নেই। সেই অভাব পূরণ করতেই শুরু হলো এক কঠিন যাত্রা। পুরনো সাময়িকীর হলদে হয়ে যাওয়া পাতার ভিড়ে লুকিয়ে থাকা অসংখ্য নিবন্ধ আর বইয়ের খোঁজে দিনরাত এক করে দেওয়া একদল মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে ধীরে ধীরে গড়ে উঠল এক বিশাল রচনাপঞ্জি।

এই দীর্ঘ যাত্রায় অতীতের দিকপালদের ছায়া যেমন আমাদের মাথার ওপর ছিল, তেমনি বর্তমানের একঝাঁক প্রাণবন্ত তরুণের উৎসাহে এই কাজ প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সত্যচরণ লাহা, জগদানন্দ রায় কিংবা বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়ের মতো মানুষেরা যে মশাল জ্বালিয়েছিলেন, তা আজ মরা গাঙে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের মতো ফিরে এসেছে আধুনিক রঙিন পত্রিকা আর ডিজিটাল লেন্সের কারসাজিতে। প্রকাশ দাস বিশ্বাস, জয়শ্রী দত্ত কিংবা গোবরডাঙা পরিষদের একনিষ্ঠ কর্মীদের হাত ধরে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কিছুটা অংশ আজ আলোর মুখ দেখল। তবে কাজটা সহজ ছিল না; অনেক পত্রিকার নিখোঁজ সংখ্যা আর তাড়াহুড়োর কারণে হয়তো কিছু অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে, যা আগামী দিনের গবেষকদের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

গল্পের শেষ পাতাটি কিন্তু এক গভীর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। আমাদের বাংলা ভাষায় পাখির চর্চা মূলত কিশোর পাঠ্য কিংবা সাধারণ আলোচনার বৃত্তে আটকে আছে। আন্তর্জাতিক মানের যে উচ্চস্তরের গবেষণাধর্মী বিজ্ঞানচর্চা ইংরেজিতে দেখা যায়, তার তুলনায় আমরা এখনও অনেকটা পিছিয়ে। এই পিছিয়ে থাকাটা কোনো পরাজয় নয়, বরং এক নতুন শপথের সূচনা। এই বইটি পাঠকদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, কেবল পাখির গল্প নয়, বরং বিজ্ঞানের গভীরে প্রবেশ করতে হলে আমাদের আরও অনেকটা পথ হাঁটতে হবে। আজ পাখির কথা দিয়ে শুরু হলেও, ভবিষ্যতে হয়তো সাপ, ব্যাঙ কিংবা ক্ষুদ্র পোকামাকড় নিয়েও এমন অনেক 'মাইক্রো লেভেল' কাজ হবে, যা বাংলার জ্ঞানভাণ্ডারকে বিশ্বমানের করে তুলবে। ওড়ার নেশা আর জানার তৃষ্ণা যেন এভাবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ে—এই বই সেই স্বপ্নেরই এক দলিল।

Product details

ডা. কনাদ বৈদ্য, দীপককুমার দাঁ

পেপেরব্যাক

৯৬ পাতা

গোবরডাঙা গবেষণা পরিষৎ

বাংলার আকাশ আর তার ডানার ঝাপটানি নিয়ে বাঙালির অনুরাগের গল্পটি আজ থেকে প্রায় দুশো বছর আগের। সেই ১৮০০ সাল, যখন শ্রীরামপুরের মিশনারিরা প্রথম ছাপার হরফে আধুনিক বিজ্ঞানের বীজ বুনেছিলেন, তখন থেকেই শুরু হয়েছিল এক দীর্ঘ এবং রোমাঞ্চকর পথচলা। তবে বাঙালির পাখি ভালোবাসা আর বাংলা ভাষায় পাখির চর্চা—দুটো কিন্তু এক নয়। খাঁচায় পাখি পোষা, শখের পক্ষীদর্শন কিংবা ইংরেজি ভাষায় গালভরা গবেষণাপত্র লেখা এক জিনিস; আর বাংলা ভাষার নিজস্ব সাহিত্য ও সাময়িকীর পাতায় পাখির জগতকে নথিবদ্ধ করা সম্পূর্ণ অন্য এক সাধনা। এই বইটি মূলত সেই দ্বিতীয় ধারার এক আশ্চর্য আখ্যান, যা ১৮০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ একুশ দশকের ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে এক অনন্য তালিকা উপহার দিয়েছে।

এই গল্পের মূল পটভূমি গোবরডাঙা গবেষণা পরিষদের সেই শান্ত লাইব্রেরি, যেখানে তাকে তাকে সাজানো রয়েছে পুরনো বিজ্ঞান পত্রিকা আর দুষ্প্রাপ্য বইয়ের সম্ভার। ২০১৩ সালের এক শীতের বিকেলে যখন একদল পক্ষীপ্রেমী ড. সত্যচরণ লাহা আর অজয় হোমের মতো কিংবদন্তিদের জন্মজয়ন্তী পালনে সমবেত হয়েছিলেন, তখনই দানা বেঁধেছিল এই সংকলনের ভাবনা। সেই আড্ডায় উঠে এসেছিল এক আক্ষেপের কথা—বাংলায় পাখি নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হলেও তার সঠিক কোনো হদিশ আমাদের কাছে নেই। সেই অভাব পূরণ করতেই শুরু হলো এক কঠিন যাত্রা। পুরনো সাময়িকীর হলদে হয়ে যাওয়া পাতার ভিড়ে লুকিয়ে থাকা অসংখ্য নিবন্ধ আর বইয়ের খোঁজে দিনরাত এক করে দেওয়া একদল মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে ধীরে ধীরে গড়ে উঠল এক বিশাল রচনাপঞ্জি।

এই দীর্ঘ যাত্রায় অতীতের দিকপালদের ছায়া যেমন আমাদের মাথার ওপর ছিল, তেমনি বর্তমানের একঝাঁক প্রাণবন্ত তরুণের উৎসাহে এই কাজ প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সত্যচরণ লাহা, জগদানন্দ রায় কিংবা বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায়ের মতো মানুষেরা যে মশাল জ্বালিয়েছিলেন, তা আজ মরা গাঙে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের মতো ফিরে এসেছে আধুনিক রঙিন পত্রিকা আর ডিজিটাল লেন্সের কারসাজিতে। প্রকাশ দাস বিশ্বাস, জয়শ্রী দত্ত কিংবা গোবরডাঙা পরিষদের একনিষ্ঠ কর্মীদের হাত ধরে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কিছুটা অংশ আজ আলোর মুখ দেখল। তবে কাজটা সহজ ছিল না; অনেক পত্রিকার নিখোঁজ সংখ্যা আর তাড়াহুড়োর কারণে হয়তো কিছু অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে, যা আগামী দিনের গবেষকদের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

গল্পের শেষ পাতাটি কিন্তু এক গভীর সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। আমাদের বাংলা ভাষায় পাখির চর্চা মূলত কিশোর পাঠ্য কিংবা সাধারণ আলোচনার বৃত্তে আটকে আছে। আন্তর্জাতিক মানের যে উচ্চস্তরের গবেষণাধর্মী বিজ্ঞানচর্চা ইংরেজিতে দেখা যায়, তার তুলনায় আমরা এখনও অনেকটা পিছিয়ে। এই পিছিয়ে থাকাটা কোনো পরাজয় নয়, বরং এক নতুন শপথের সূচনা। এই বইটি পাঠকদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, কেবল পাখির গল্প নয়, বরং বিজ্ঞানের গভীরে প্রবেশ করতে হলে আমাদের আরও অনেকটা পথ হাঁটতে হবে। আজ পাখির কথা দিয়ে শুরু হলেও, ভবিষ্যতে হয়তো সাপ, ব্যাঙ কিংবা ক্ষুদ্র পোকামাকড় নিয়েও এমন অনেক 'মাইক্রো লেভেল' কাজ হবে, যা বাংলার জ্ঞানভাণ্ডারকে বিশ্বমানের করে তুলবে। ওড়ার নেশা আর জানার তৃষ্ণা যেন এভাবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ে—এই বই সেই স্বপ্নেরই এক দলিল।

You might like these