খুশির হাওয়া নববর্ষ সংখ্যা ১৪৩৩ (2026)
খুশির হাওয়া নববর্ষ সংখ্যা ১৪৩৩ (2026)
Product details
পেপারব্যাক
১১২ পাতা
খুশির ঝুলি
বাংলা নববর্ষের প্রেরণায় আবারও প্রকাশিত হলো খুশির ঝুলির অর্ধবার্ষিক সাহিত্য পত্রিকা খুশির হাওয়া নববর্ষ সংখ্যা - যেখানে সাহিত্য মিশেছে মানবিকতার স্পর্শে। দুঃস্থ শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে এই সংখ্যায় একত্রিত হয়েছেন প্রথিতযশা সাহিত্যিক, নবীন লেখক এবং প্রতিশ্রুতিমান খুদে স্রষ্টারা।
গল্প, প্রবন্ধ, ছড়া, ধারাবাহিক বিভাগ এবং মননশীল লেখায় সমৃদ্ধ এবারের খুশির হাওয়া শুধু একটি সাহিত্য পত্রিকা নয়, এটি একটি সামাজিক সেবার অংশ। বিশেষ আনন্দের বিষয়, ছোটদের পাতার এক খুদে লেখক এবার জায়গা করে নিয়েছে বড়দের লেখার পাশে - যা প্রমাণ করে খুশির হাওয়া সত্যিই নতুন লেখক তৈরির একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে। অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী, শিল্পী, প্রুফরিডার ও বিজ্ঞাপনদাতার আন্তরিক সহযোগিতায় পত্রিকাটি পেয়েছে পূর্ণতা।
খুশির হাওয়া পত্রিকার প্রতিটি কপি সংগ্রহ মানেই কিছু প্রান্তিক শিশুর শিক্ষা, স্বপ্ন ও আনন্দের পাশে থাকা। সাহিত্যপ্রেমের সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার এই সহৃদয় উদ্যোগে আপনিও সামিল হোন। নিজে পড়ুন, অন্যকে পড়তে উৎসাহিত করুন, আর ছড়িয়ে দিন ভালোবাসা ও আশার আলো।
খুশির ঝুলির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
দিনটা ছিল ২০১৯ সালের ‘মহালয়া’। চারিদিকে তখন শরৎ-আকাশের নীল আর দুর্গাপূজার ঢাকের আওয়াজ। ঠিক সেই পুণ্যলগ্নে বজবজ স্টেশনের রেল প্ল্যাটফর্মে আশ্রয় নেওয়া কিছু অসহায়, গৃহহীন মানুষের হাতে নতুন জামাকাপড় তুলে দিতে দিতে আমাদের পথচলা শুরু। কিন্তু সেই প্ল্যাটফর্মেই আমরা রোজ দেখতাম কিছু নিষ্পাপ চোখ, যারা পেটের টানে ভিক্ষা করত। তখনই আমাদের মনে হলো - শুধু একদিনের অন্ন বা বস্ত্র নয়, এদের যদি জীবনের মূল স্রোতে ফেরাতে হয়, তবে শিক্ষার আলো জ্বালানোই সবচেয়ে বড় সাহায্য। অশিক্ষা দূর না হলে এই অন্ধকার কাটবে না!
আমাদের মূল কাজের জায়গা এই রেল কলোনি ও সংলগ্ন বস্তি এলাকা। চরম দারিদ্র্যের কারণে এখানকার একটা বড় অংশের শিশু পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এক বুক ছন্দহারা শৈশব নিয়ে কেউ চায়ের দোকানে বা গ্যারেজে যৎসামান্য মজুরিতে খাটছে, আবার কোনো কোনো একরত্তি মেয়ে অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয় সরকারি স্কুলের শিক্ষকরাও একবাক্যে স্বীকার করেন যে, এই স্কুলছুট হওয়ার প্রধান কারণ হলো অভাব। আর এই নিরক্ষরতা ও দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়েই জাঁকিয়ে বসে মানব পাচার বা নানাবিধ অসামাজিক কাজ। আমরা এই অন্ধকারের বুকেই আলোর মশাল জ্বালতে চেয়েছি। অনেক কঠিন লড়াইয়ের (সেসবের বিবরণ দিয়ে আর পাঠকের ধৈর্য্য চ্যুতি ঘটাতে চাই না) পরে অবশেষে আমরা এইসব শিশুদের শিক্ষায় সাহায্য করার একটা ব্যবস্থা করতে পেরেছি।
বর্তমানে বজবজ রেল কলোনির কাছে ১২০ জন নিয়মিত ছাত্রছাত্রী নিয়ে চলছে আমাদের অবৈতনিক কোচিং স্কুল। সাধারণ পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে প্রাথমিক কম্পিউটার শিক্ষা ও স্পোকেন ইংলিশ শিক্ষার ব্যবস্থাও আছে। অনেক সহৃদয় মানুষের অকুণ্ঠ সহযোগিতায় ওদের পড়াশোনার সমস্ত সরঞ্জাম - বই, খাতা, পেন, পেনসিল, স্কুল ব্যাগ থেকে শুরু করে জামাকাপড় ও শীতবস্ত্র আমরা ভালোবেসে তুলে দিতে পারি ওদের হাতে। আর ওদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য চলে নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা - নাচ, গান, নাটক, আবৃত্তি আর ছবি আঁকা। এছাড়া নেতাজি জয়ন্তী, প্রজাতন্ত্র দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী থেকে শুরু করে স্বাধীনতা দিবস - সমস্ত বিশেষ দিন আমরা মর্যাদার সাথে উদযাপন করি ছোটদের নিয়ে। এই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে আর একটি সংযোজন আমাদের অর্ধবার্ষিক কিশোর সাহিত্য পত্রিকা - "খুশির হাওয়া"।
এইসব শিশুদের বাইরেও বহু দুঃস্থ ছাত্রছাত্রী আছে, যারা প্রথাগত শিক্ষা গ্রহন করলেও আর্থিক কারণে বই খাতা কেনা বা উচ্চশিক্ষা নেওয়া তাদের পক্ষে খুবই কষ্টকর। আমরা এইসব ছাত্রছাত্রীদেরও যথাসম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করি।
এই মূল শিক্ষা সংক্রান্ত কর্মকান্ড ছাড়াও আরও কিছু সামাজিক কাজ আমরা নিয়মিত করার চেষ্টা করি। বছরের শুরুতে বজবজ রেল কলোনি মাঠে আয়োজিত হয় বিশাল "বসে আঁকো প্রতিযোগিতা"। যেখানে ৫০০-র বেশি শিশুর তুলির টানে রঙিন হয়ে ওঠে শীতের সকাল। প্রতি বছর শীতের আগে স্থানীয় ফুটপাথবাসীদের কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়াও আমরা চেষ্টা করি প্রতি বছর পয়লা বৈশাখ আর দুর্গাপূজার আগে দুঃস্থ মানুষদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দিয়ে তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে।
আমরা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক ও সেবামূলক একটি সংস্থা। মানুষের আশীর্বাদই আমাদের এগিয়ে চলার শক্তি। আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ জানাই যে কোন সপ্তাহান্তে এসে আমাদের কর্মকান্ড স্বচক্ষে পরিদর্শন করার জন্য এবং আমাদের পাশে থাকার জন্য।
Product details
পেপারব্যাক
১১২ পাতা
খুশির ঝুলি
বাংলা নববর্ষের প্রেরণায় আবারও প্রকাশিত হলো খুশির ঝুলির অর্ধবার্ষিক সাহিত্য পত্রিকা খুশির হাওয়া নববর্ষ সংখ্যা - যেখানে সাহিত্য মিশেছে মানবিকতার স্পর্শে। দুঃস্থ শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে এই সংখ্যায় একত্রিত হয়েছেন প্রথিতযশা সাহিত্যিক, নবীন লেখক এবং প্রতিশ্রুতিমান খুদে স্রষ্টারা।
গল্প, প্রবন্ধ, ছড়া, ধারাবাহিক বিভাগ এবং মননশীল লেখায় সমৃদ্ধ এবারের খুশির হাওয়া শুধু একটি সাহিত্য পত্রিকা নয়, এটি একটি সামাজিক সেবার অংশ। বিশেষ আনন্দের বিষয়, ছোটদের পাতার এক খুদে লেখক এবার জায়গা করে নিয়েছে বড়দের লেখার পাশে - যা প্রমাণ করে খুশির হাওয়া সত্যিই নতুন লেখক তৈরির একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে। অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী, শিল্পী, প্রুফরিডার ও বিজ্ঞাপনদাতার আন্তরিক সহযোগিতায় পত্রিকাটি পেয়েছে পূর্ণতা।
খুশির হাওয়া পত্রিকার প্রতিটি কপি সংগ্রহ মানেই কিছু প্রান্তিক শিশুর শিক্ষা, স্বপ্ন ও আনন্দের পাশে থাকা। সাহিত্যপ্রেমের সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার এই সহৃদয় উদ্যোগে আপনিও সামিল হোন। নিজে পড়ুন, অন্যকে পড়তে উৎসাহিত করুন, আর ছড়িয়ে দিন ভালোবাসা ও আশার আলো।
খুশির ঝুলির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
দিনটা ছিল ২০১৯ সালের ‘মহালয়া’। চারিদিকে তখন শরৎ-আকাশের নীল আর দুর্গাপূজার ঢাকের আওয়াজ। ঠিক সেই পুণ্যলগ্নে বজবজ স্টেশনের রেল প্ল্যাটফর্মে আশ্রয় নেওয়া কিছু অসহায়, গৃহহীন মানুষের হাতে নতুন জামাকাপড় তুলে দিতে দিতে আমাদের পথচলা শুরু। কিন্তু সেই প্ল্যাটফর্মেই আমরা রোজ দেখতাম কিছু নিষ্পাপ চোখ, যারা পেটের টানে ভিক্ষা করত। তখনই আমাদের মনে হলো - শুধু একদিনের অন্ন বা বস্ত্র নয়, এদের যদি জীবনের মূল স্রোতে ফেরাতে হয়, তবে শিক্ষার আলো জ্বালানোই সবচেয়ে বড় সাহায্য। অশিক্ষা দূর না হলে এই অন্ধকার কাটবে না!
আমাদের মূল কাজের জায়গা এই রেল কলোনি ও সংলগ্ন বস্তি এলাকা। চরম দারিদ্র্যের কারণে এখানকার একটা বড় অংশের শিশু পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এক বুক ছন্দহারা শৈশব নিয়ে কেউ চায়ের দোকানে বা গ্যারেজে যৎসামান্য মজুরিতে খাটছে, আবার কোনো কোনো একরত্তি মেয়ে অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয় সরকারি স্কুলের শিক্ষকরাও একবাক্যে স্বীকার করেন যে, এই স্কুলছুট হওয়ার প্রধান কারণ হলো অভাব। আর এই নিরক্ষরতা ও দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়েই জাঁকিয়ে বসে মানব পাচার বা নানাবিধ অসামাজিক কাজ। আমরা এই অন্ধকারের বুকেই আলোর মশাল জ্বালতে চেয়েছি। অনেক কঠিন লড়াইয়ের (সেসবের বিবরণ দিয়ে আর পাঠকের ধৈর্য্য চ্যুতি ঘটাতে চাই না) পরে অবশেষে আমরা এইসব শিশুদের শিক্ষায় সাহায্য করার একটা ব্যবস্থা করতে পেরেছি।
বর্তমানে বজবজ রেল কলোনির কাছে ১২০ জন নিয়মিত ছাত্রছাত্রী নিয়ে চলছে আমাদের অবৈতনিক কোচিং স্কুল। সাধারণ পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে প্রাথমিক কম্পিউটার শিক্ষা ও স্পোকেন ইংলিশ শিক্ষার ব্যবস্থাও আছে। অনেক সহৃদয় মানুষের অকুণ্ঠ সহযোগিতায় ওদের পড়াশোনার সমস্ত সরঞ্জাম - বই, খাতা, পেন, পেনসিল, স্কুল ব্যাগ থেকে শুরু করে জামাকাপড় ও শীতবস্ত্র আমরা ভালোবেসে তুলে দিতে পারি ওদের হাতে। আর ওদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য চলে নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা - নাচ, গান, নাটক, আবৃত্তি আর ছবি আঁকা। এছাড়া নেতাজি জয়ন্তী, প্রজাতন্ত্র দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী থেকে শুরু করে স্বাধীনতা দিবস - সমস্ত বিশেষ দিন আমরা মর্যাদার সাথে উদযাপন করি ছোটদের নিয়ে। এই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে আর একটি সংযোজন আমাদের অর্ধবার্ষিক কিশোর সাহিত্য পত্রিকা - "খুশির হাওয়া"।
এইসব শিশুদের বাইরেও বহু দুঃস্থ ছাত্রছাত্রী আছে, যারা প্রথাগত শিক্ষা গ্রহন করলেও আর্থিক কারণে বই খাতা কেনা বা উচ্চশিক্ষা নেওয়া তাদের পক্ষে খুবই কষ্টকর। আমরা এইসব ছাত্রছাত্রীদেরও যথাসম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করি।
এই মূল শিক্ষা সংক্রান্ত কর্মকান্ড ছাড়াও আরও কিছু সামাজিক কাজ আমরা নিয়মিত করার চেষ্টা করি। বছরের শুরুতে বজবজ রেল কলোনি মাঠে আয়োজিত হয় বিশাল "বসে আঁকো প্রতিযোগিতা"। যেখানে ৫০০-র বেশি শিশুর তুলির টানে রঙিন হয়ে ওঠে শীতের সকাল। প্রতি বছর শীতের আগে স্থানীয় ফুটপাথবাসীদের কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়াও আমরা চেষ্টা করি প্রতি বছর পয়লা বৈশাখ আর দুর্গাপূজার আগে দুঃস্থ মানুষদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দিয়ে তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে।
আমরা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক ও সেবামূলক একটি সংস্থা। মানুষের আশীর্বাদই আমাদের এগিয়ে চলার শক্তি। আপনাদের সবাইকে আমন্ত্রণ জানাই যে কোন সপ্তাহান্তে এসে আমাদের কর্মকান্ড স্বচক্ষে পরিদর্শন করার জন্য এবং আমাদের পাশে থাকার জন্য।