ছেলেমেয়ে মানুষ করা প্রসঙ্গে মা-বাবার বই
Product details
অনুবাদঃ বিজয় পাল
হার্ড কভার
৩৯৩ পাতা
প্রগতি প্রকাশন মস্কো
সন্তান লালন-পালন করা কেবল একটি পারিবারিক দায়িত্বই নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত জটিল এবং বহুমুখী মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। একটি শিশুকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মা-বাবার ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত, সেই চিরন্তন জিজ্ঞাসার এক চমৎকার বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিকনির্দেশনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে "ছেলেমেয়ে মানুষ করা প্রসঙ্গে মা-বাবার বই" গ্রন্থটিতে। প্রখ্যাত সোভিয়েত বিজ্ঞানী এবং শিক্ষাবিদদের গভীর গবেষণা ও অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত এই বইটি প্রতিটি সচেতন অভিভাবকের জন্য একটি অবশ্য পাঠ্য গাইড। এই অমূল্য বইটিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের সফল পারিবারিক শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোটি কীভাবে গঠিত হয়েছিল এবং তা কীভাবে শিশুদের মানসিক বিকাশে ভূমিকা রেখেছিল, তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। শুধু তাত্ত্বিক আলোচনাই নয়, বরং দৈনন্দিন পারিবারিক জীবনে মা-বাবারা কীভাবে এই শিক্ষাপদ্ধতিগুলোকে কাজে লাগাতে পারবেন, সে সম্পর্কে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত উপদেশ ও পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্ট গবেষকেরা। লেখকদের মতে, মানুষের শিক্ষাদীক্ষা শুরু হয় তার জীবনের প্রথম দিন অর্থাৎ জন্মের দিন থেকেই। তাই এখানে পাঠকরা পাবেন নবজাতকের বিকাশ সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য। শিশুর জীবনের প্রতিটি পর্বে যে ভিন্ন ভিন্ন ও বিশেষ শিক্ষা পদ্ধতির প্রয়োজন হয়, তা বইটিতে সুনিপুণভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
শিশুর জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল, পরিবর্তনশীল এবং জটিল সময় হলো তার বয়ঃসন্ধিকাল। বইটি আমাদের চারপাশের চেনা জীবন থেকে নেওয়া অসংখ্য বাস্তব উদাহরণের ভিত্তিতে অত্যন্ত সহজ ও বোধগম্য ভাষায় এই কঠিন সময়টিকে বিশ্লেষণ করেছে। এই বয়সে শারীরিক বৃদ্ধি এবং দেহযন্ত্রে ঘটমান মনস্তাত্ত্বিক ও দৈহিক পরিবর্তনের কারণে শিশুদের আচরণে প্রায়শই এক ধরনের 'কাঠিন্য' বা জেদ দেখা দেয়। লেখকরা অত্যন্ত চমৎকারভাবে মা-বাবাদের বুঝিয়েছেন যে এটি একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক জৈবিক ও মানসিক প্রক্রিয়া। তাই সবচেয়ে জটিল বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পিতামাতাদের রাগ না করে নিজেদের স্থৈর্য ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। অতি অসাধারণ ও সংকটময় পরিস্থিতিতেও কীভাবে সঠিক ও কার্যকর শিক্ষাপদ্ধতি প্রয়োগ করে সন্তানকে সামলানো যায়, তার নিখুঁত কৌশল বাতলে দিয়েছেন লেখকবৃন্দ। ছেলেমেয়ে মানুষ করার ক্ষেত্রে বইটিতে একটি প্রধান শর্তের কথা বলা হয়েছে, যা হলো শিশুর নিজস্ব ব্যক্তিত্বের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং পিতামাতার যুক্তিসঙ্গত স্নেহ-ভালোবাসা।
লেখকরা পিতামাতাদের সব ধরনের চরম আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সন্তানকে অতিরিক্ত চোখে হারানো বা অতি-ভালোবাসা যেমন ক্ষতিকর, তেমনই অতিরিক্ত কঠোরতা বা শাসনও শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে রুদ্ধ করে দেয়। এই দুই ক্ষেত্রের চরমাবস্থাই সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই ভালোবাসা এবং শাসনের মধ্যে একটি সুষম ভারসাম্য বজায় রাখাই আসল সার্থকতা। বইটিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সত্য মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, শিশুর শিক্ষাদীক্ষা কেবল মা-বাবার চার দেয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়। এটি একটি অত্যন্ত জটিল ও বহুমুখী প্রক্রিয়া, যেখানে মা-বাবা ছাড়াও পরিবারের অন্যান্য সদস্য, বিদ্যালয় এবং রাস্তাঘাটে চারপাশের মানুষজনও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। তবে সবার অবদানের মাঝেও, সন্তানকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মূল ও প্রধান ভূমিকাটি কিন্তু মা-বাবারই। আর ঠিক এই কারণেই বইটি মূলত তাঁদের জন্যই লেখা হয়েছে।
আধুনিক যুগের গতিশীল ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ জীবনে মা-বাবারা প্রতিনিয়ত সন্তান লালন-পালনে নানা নতুন নতুন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ভারতীয় সমাজ ও পারিবারিক সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে এই বইটির প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম। বইটির সহজ-সরল ভাষা এবং জীবন থেকে নেওয়া উদাহরণগুলো আপনার অভিভাবকত্বের ধারণাকে আমূল বদলে দেবে। আশা করা যায়, বইটি পড়ার পর ভারতীয় পিতামাতারা গভীরভাবে উপকৃত হবেন এবং এর চমৎকার শিক্ষাপদ্ধতিগুলো তাঁদের সন্তানদের একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ভবিষ্যৎ গঠনে দারুণভাবে কাজে লাগবে। আপনার সন্তানকে সঠিকভাবে বুঝতে এবং তাকে একজন আদর্শ ও সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আজই এই অনন্য বইটি পড়া শুরু করুন।
Product details
অনুবাদঃ বিজয় পাল
হার্ড কভার
৩৯৩ পাতা
প্রগতি প্রকাশন মস্কো
সন্তান লালন-পালন করা কেবল একটি পারিবারিক দায়িত্বই নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত জটিল এবং বহুমুখী মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। একটি শিশুকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মা-বাবার ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত, সেই চিরন্তন জিজ্ঞাসার এক চমৎকার বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিকনির্দেশনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে "ছেলেমেয়ে মানুষ করা প্রসঙ্গে মা-বাবার বই" গ্রন্থটিতে। প্রখ্যাত সোভিয়েত বিজ্ঞানী এবং শিক্ষাবিদদের গভীর গবেষণা ও অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত এই বইটি প্রতিটি সচেতন অভিভাবকের জন্য একটি অবশ্য পাঠ্য গাইড। এই অমূল্য বইটিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের সফল পারিবারিক শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোটি কীভাবে গঠিত হয়েছিল এবং তা কীভাবে শিশুদের মানসিক বিকাশে ভূমিকা রেখেছিল, তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। শুধু তাত্ত্বিক আলোচনাই নয়, বরং দৈনন্দিন পারিবারিক জীবনে মা-বাবারা কীভাবে এই শিক্ষাপদ্ধতিগুলোকে কাজে লাগাতে পারবেন, সে সম্পর্কে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত উপদেশ ও পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্ট গবেষকেরা। লেখকদের মতে, মানুষের শিক্ষাদীক্ষা শুরু হয় তার জীবনের প্রথম দিন অর্থাৎ জন্মের দিন থেকেই। তাই এখানে পাঠকরা পাবেন নবজাতকের বিকাশ সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য। শিশুর জীবনের প্রতিটি পর্বে যে ভিন্ন ভিন্ন ও বিশেষ শিক্ষা পদ্ধতির প্রয়োজন হয়, তা বইটিতে সুনিপুণভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
শিশুর জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল, পরিবর্তনশীল এবং জটিল সময় হলো তার বয়ঃসন্ধিকাল। বইটি আমাদের চারপাশের চেনা জীবন থেকে নেওয়া অসংখ্য বাস্তব উদাহরণের ভিত্তিতে অত্যন্ত সহজ ও বোধগম্য ভাষায় এই কঠিন সময়টিকে বিশ্লেষণ করেছে। এই বয়সে শারীরিক বৃদ্ধি এবং দেহযন্ত্রে ঘটমান মনস্তাত্ত্বিক ও দৈহিক পরিবর্তনের কারণে শিশুদের আচরণে প্রায়শই এক ধরনের 'কাঠিন্য' বা জেদ দেখা দেয়। লেখকরা অত্যন্ত চমৎকারভাবে মা-বাবাদের বুঝিয়েছেন যে এটি একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক জৈবিক ও মানসিক প্রক্রিয়া। তাই সবচেয়ে জটিল বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পিতামাতাদের রাগ না করে নিজেদের স্থৈর্য ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। অতি অসাধারণ ও সংকটময় পরিস্থিতিতেও কীভাবে সঠিক ও কার্যকর শিক্ষাপদ্ধতি প্রয়োগ করে সন্তানকে সামলানো যায়, তার নিখুঁত কৌশল বাতলে দিয়েছেন লেখকবৃন্দ। ছেলেমেয়ে মানুষ করার ক্ষেত্রে বইটিতে একটি প্রধান শর্তের কথা বলা হয়েছে, যা হলো শিশুর নিজস্ব ব্যক্তিত্বের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং পিতামাতার যুক্তিসঙ্গত স্নেহ-ভালোবাসা।
লেখকরা পিতামাতাদের সব ধরনের চরম আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সন্তানকে অতিরিক্ত চোখে হারানো বা অতি-ভালোবাসা যেমন ক্ষতিকর, তেমনই অতিরিক্ত কঠোরতা বা শাসনও শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে রুদ্ধ করে দেয়। এই দুই ক্ষেত্রের চরমাবস্থাই সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই ভালোবাসা এবং শাসনের মধ্যে একটি সুষম ভারসাম্য বজায় রাখাই আসল সার্থকতা। বইটিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সত্য মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, শিশুর শিক্ষাদীক্ষা কেবল মা-বাবার চার দেয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়। এটি একটি অত্যন্ত জটিল ও বহুমুখী প্রক্রিয়া, যেখানে মা-বাবা ছাড়াও পরিবারের অন্যান্য সদস্য, বিদ্যালয় এবং রাস্তাঘাটে চারপাশের মানুষজনও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। তবে সবার অবদানের মাঝেও, সন্তানকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মূল ও প্রধান ভূমিকাটি কিন্তু মা-বাবারই। আর ঠিক এই কারণেই বইটি মূলত তাঁদের জন্যই লেখা হয়েছে।
আধুনিক যুগের গতিশীল ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ জীবনে মা-বাবারা প্রতিনিয়ত সন্তান লালন-পালনে নানা নতুন নতুন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ভারতীয় সমাজ ও পারিবারিক সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে এই বইটির প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম। বইটির সহজ-সরল ভাষা এবং জীবন থেকে নেওয়া উদাহরণগুলো আপনার অভিভাবকত্বের ধারণাকে আমূল বদলে দেবে। আশা করা যায়, বইটি পড়ার পর ভারতীয় পিতামাতারা গভীরভাবে উপকৃত হবেন এবং এর চমৎকার শিক্ষাপদ্ধতিগুলো তাঁদের সন্তানদের একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ভবিষ্যৎ গঠনে দারুণভাবে কাজে লাগবে। আপনার সন্তানকে সঠিকভাবে বুঝতে এবং তাকে একজন আদর্শ ও সংবেদনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আজই এই অনন্য বইটি পড়া শুরু করুন।
Sort by
Newest first
Newest first
Oldest first
Highest rated
Lowest rated
Ratings
All ratings
All ratings
5 Stars
4 Stars
3 Stars
2 Stars
1 Star