বিন্দু
Product details
উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রাম 'বিন্দু'তে এক দশ বছরের আরণ্যক কন্যার নাম বিন্দু। দিদি চম্পা, ভাই দুধকুমার আর বাবা-মাকে নিয়ে তাদের সংসার। জঙ্গল আর বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে বিন্দুর সম্পর্ক যেন এক বিস্ময়কর বোঝাপড়ার গল্প। একদিন জংলি হাতির হানায় যখন চম্পার প্রাণ যায় যায়, তখন বিন্দু উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে—প্রকৃতির কোলে বড় হওয়া এই মেয়েটির কাছে অরণ্য কোনো ভয়ের জায়গা নয়, বরং আপন। চম্পা মাধ্যমিকে বৃত্তি পাওয়ায় দুই বোনকে লেখাপড়ার জন্য দার্জিলিং পাঠিয়ে দেন বাবা-মা। শৈলশহরের কনভেন্ট স্কুলে নতুন অভিজ্ঞতার ভিড়ে বিন্দুর মন পড়ে থাকে ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ জঙ্গল, ঝরনা আর বালিয়াড়িতে।
ঠিক তখনই ইউনেস্কো উত্তরবঙ্গের বিশাল বনাঞ্চলকে 'গ্রিন করিডোর' ঘোষণা করে বন্যপ্রাণীদের জন্য বাজেয়াপ্ত করতে নির্দেশ দেয় সরকারকে। ফলে বিন্দু গ্রামের প্রায় সাড়ে তিনশো পরিবারকে বিন্দু ছেড়ে চলে যেতে হবে! এই দুঃসংবাদ পেয়ে বিন্দু ও চম্পা ছুটে আসে গ্রামে। সেখানে তারা দেখে, সরকারি অফিসার পরমজিত সিং নির্দেশ মতোই উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছেন, হাতি রক্ষার অজুহাতে মানুষের ভিটে উজাড় করে দিচ্ছেন।
কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! অভিযানের মাঝখানেই পরমজিত সিংয়ের পাঁচ বছরের নাতি খেলতে খেলতে হারিয়ে যায় গভীর অরণ্যে। শিশুটি পড়ে যায় চিতাবাঘ আর জংলি হাতির ভয়ংকর এক দ্বৈরথের মাঝখানে!
শিশুটি কি চিরতরে হারিয়ে যাবে ডুয়ার্সের জঙ্গলে? প্রাণের ভয়ে ছোট্ট বিন্দু কি ফের দার্জিলিং যেতে বাধ্য হবে? প্রকৃতি রক্ষার নামে কি আদৌ মানবসভ্যতাকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায়? নাকি বিন্দু আর তার পরিবারসহ সাড়ে তিনশো পরিবারের ঠাঁই হবে না কোথাও?
একটি দশ বছরের বালিকার চোখ দিয়ে দেখা অরণ্য আর সভ্যতার লড়াইয়ের গল্প। শহুরে শিক্ষা আর আদিম প্রবৃত্তির টানাপোড়েনের মধ্যে দাঁড়িয়ে, বিন্দু কি নিজের ভিটে আর প্রকৃতির এই অদ্ভুত বন্ধনকে বাঁচাতে পারবে? না কি সব শেষ?
লেখক পরিচিতি
দোলনচাঁপা দাশগুপ্তের জন্ম দক্ষিণ কলকাতায় হলেও লেখাপড়া উত্তর কলকাতায়। ক্লাস এগারো বারো স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে পাশ করে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারি পড়া। বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল এবং ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক হিসেবে চাকরি করলেও বর্তমানে প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার এবং পেশাদার লেখক। আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকীতে প্রকাশিত দুটি কিশোর উপন্যাস 'ঝুকুমুকু' এবং 'চন্দ্রতালের পরিরা' বই হিসেবে প্রকাশিত। বড়োদের জন্য প্রথম প্রকাশিত গল্প 'কুহেলি' দেশ পত্রিকায়। এইরকম কুড়িটি ছোটোগল্প সংকলন 'এই মুখ অন্য মুখ' পাঠকপ্রিয় হয়েছে। শাস্ত্রীয় সংগীত ও মানবজীবনের ওপর লেখা কিশোরোপন্যাস 'ইমনকল্যাণ'ও পাঠকমহলে সমাদৃত। 'লেখা ও রেখা' অ্যালবামটি তাঁর কবিতা এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী ধীরাজ চৌধুরীর একটি অনন্য সৃষ্টি। 'হিরে মোতি' শিশু-কিশোরদের জন্য অনুপম জঁরে লেখা একটি কল্পবিজ্ঞান আশ্রিত উপন্যাস।
Product details
উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রাম 'বিন্দু'তে এক দশ বছরের আরণ্যক কন্যার নাম বিন্দু। দিদি চম্পা, ভাই দুধকুমার আর বাবা-মাকে নিয়ে তাদের সংসার। জঙ্গল আর বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে বিন্দুর সম্পর্ক যেন এক বিস্ময়কর বোঝাপড়ার গল্প। একদিন জংলি হাতির হানায় যখন চম্পার প্রাণ যায় যায়, তখন বিন্দু উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে—প্রকৃতির কোলে বড় হওয়া এই মেয়েটির কাছে অরণ্য কোনো ভয়ের জায়গা নয়, বরং আপন। চম্পা মাধ্যমিকে বৃত্তি পাওয়ায় দুই বোনকে লেখাপড়ার জন্য দার্জিলিং পাঠিয়ে দেন বাবা-মা। শৈলশহরের কনভেন্ট স্কুলে নতুন অভিজ্ঞতার ভিড়ে বিন্দুর মন পড়ে থাকে ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ জঙ্গল, ঝরনা আর বালিয়াড়িতে।
ঠিক তখনই ইউনেস্কো উত্তরবঙ্গের বিশাল বনাঞ্চলকে 'গ্রিন করিডোর' ঘোষণা করে বন্যপ্রাণীদের জন্য বাজেয়াপ্ত করতে নির্দেশ দেয় সরকারকে। ফলে বিন্দু গ্রামের প্রায় সাড়ে তিনশো পরিবারকে বিন্দু ছেড়ে চলে যেতে হবে! এই দুঃসংবাদ পেয়ে বিন্দু ও চম্পা ছুটে আসে গ্রামে। সেখানে তারা দেখে, সরকারি অফিসার পরমজিত সিং নির্দেশ মতোই উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছেন, হাতি রক্ষার অজুহাতে মানুষের ভিটে উজাড় করে দিচ্ছেন।
কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! অভিযানের মাঝখানেই পরমজিত সিংয়ের পাঁচ বছরের নাতি খেলতে খেলতে হারিয়ে যায় গভীর অরণ্যে। শিশুটি পড়ে যায় চিতাবাঘ আর জংলি হাতির ভয়ংকর এক দ্বৈরথের মাঝখানে!
শিশুটি কি চিরতরে হারিয়ে যাবে ডুয়ার্সের জঙ্গলে? প্রাণের ভয়ে ছোট্ট বিন্দু কি ফের দার্জিলিং যেতে বাধ্য হবে? প্রকৃতি রক্ষার নামে কি আদৌ মানবসভ্যতাকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায়? নাকি বিন্দু আর তার পরিবারসহ সাড়ে তিনশো পরিবারের ঠাঁই হবে না কোথাও?
একটি দশ বছরের বালিকার চোখ দিয়ে দেখা অরণ্য আর সভ্যতার লড়াইয়ের গল্প। শহুরে শিক্ষা আর আদিম প্রবৃত্তির টানাপোড়েনের মধ্যে দাঁড়িয়ে, বিন্দু কি নিজের ভিটে আর প্রকৃতির এই অদ্ভুত বন্ধনকে বাঁচাতে পারবে? না কি সব শেষ?
লেখক পরিচিতি
দোলনচাঁপা দাশগুপ্তের জন্ম দক্ষিণ কলকাতায় হলেও লেখাপড়া উত্তর কলকাতায়। ক্লাস এগারো বারো স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে পাশ করে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারি পড়া। বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল এবং ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক হিসেবে চাকরি করলেও বর্তমানে প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার এবং পেশাদার লেখক। আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকীতে প্রকাশিত দুটি কিশোর উপন্যাস 'ঝুকুমুকু' এবং 'চন্দ্রতালের পরিরা' বই হিসেবে প্রকাশিত। বড়োদের জন্য প্রথম প্রকাশিত গল্প 'কুহেলি' দেশ পত্রিকায়। এইরকম কুড়িটি ছোটোগল্প সংকলন 'এই মুখ অন্য মুখ' পাঠকপ্রিয় হয়েছে। শাস্ত্রীয় সংগীত ও মানবজীবনের ওপর লেখা কিশোরোপন্যাস 'ইমনকল্যাণ'ও পাঠকমহলে সমাদৃত। 'লেখা ও রেখা' অ্যালবামটি তাঁর কবিতা এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী ধীরাজ চৌধুরীর একটি অনন্য সৃষ্টি। 'হিরে মোতি' শিশু-কিশোরদের জন্য অনুপম জঁরে লেখা একটি কল্পবিজ্ঞান আশ্রিত উপন্যাস।
Sort by
Newest first
Newest first
Oldest first
Highest rated
Lowest rated
Ratings
All ratings
All ratings
5 Stars
4 Stars
3 Stars
2 Stars
1 Star