Menu

বামাবোধিনী পত্রিকা

₹350
History of Science

বামাবোধিনী পত্রিকা

Product details

ড. শতাব্দী দাশ, দীপককুমার দাঁ

২৪০ পাতা

হার্ড কভার

গোবরডাঙা গবেষণা পরিষৎ

একদা উনিশ শতকের মধ্যভাগে বাংলার বুক যখন হাজার বছরের অন্ধকার আর কুসংস্কারে ঢাকা ছিল, তখন অন্তঃপুরের চারদেওয়ালে বন্দি নারীদের জীবনে এক বৈপ্লবিক আলোর দিশারি হয়ে দেখা দিয়েছিল 'বামাবোধিনী' পত্রিকা। ১৮৬৩ থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৬০ বছরের এই যাত্রা ছিল এক নিঃশব্দ বিপ্লবের ইতিহাস। সে এক কঠিন সময়, যখন মধ্যবিত্ত ঘরের বালিকাদের শিক্ষা শুরু হতেই বাল্যবিবাহের অভিশাপে তা থমকে যেত। সেই প্রতিকূল পরিবেশে জন এলিয়েট ড্রিংকওয়াটার বেথুন, পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কিংবা মদনমোহন তর্কালঙ্কারের মতো মনীষীরা যখন নারীশিক্ষার মশাল জ্বালালেন, তখন রক্ষণশীল সমাজ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে ফেটে পড়েছিল। এমনকি কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তও নারীশিক্ষাকে বিদ্রূপ করে ছড়া কেটেছিলেন। কিন্তু সেই সমস্ত ঝড়ঝাপটা উপেক্ষা করে উমেশচন্দ্র দত্তের সম্পাদনায় আত্মপ্রকাশ করল 'বামাবোধিনী', যার মূল লক্ষ্য ছিল নারীদের সংস্কারমুক্ত, মুক্তমনা ও যুক্তিবাদী হিসেবে গড়ে তোলা।

এই পত্রিকার পাতা ওল্টালে আজও এক আধুনিক মনন ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায় যা এককথায় অনবদ্য। আজকের দিনের জনপ্রিয় অনলাইন শিক্ষাভাবনার পূর্বসূরি হিসেবে এই পত্রিকার 'অন্তঃপুরে স্ত্রী শিক্ষা' প্রবর্তনকে চিহ্নিত করা যায়। পত্রিকাটির বৈশিষ্ট্য ছিল এর সহজ ও আকর্ষণীয় পরিবেশনশৈলী। এর পাতায় কেবল ঘরকন্না বা ধর্মকথা ছিল না, বরং তাত্ত্বিকতার মোড়ক ছাড়িয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিবেশিত হত পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূগোল, উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণিবিজ্ঞানের মতো জটিল বিষয়গুলি। এমনকি ছবি বা ডায়াগ্রামের সাহায্যে বিজ্ঞানকে মেয়েদের কাছে বোধগম্য করে তোলা হত। সে যুগের সামাজিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞানের এই প্রচার ছিল সত্যিই এক বিস্ময়কর পদক্ষেপ।

'বামাবোধিনী'র আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার মেয়েরা নিজেদের মনের কথা লিখে পাঠাতে শুরু করলেন। কখনও নাম প্রকাশ করে, আবার কখনও বা নামবিহীন অবস্থায় তাঁরা কলম ধরলেন সমাজ সচেতনতা ও রাজনীতির নানা বিষয়ে। পত্রিকাটির পাতায় উঠে এল এক দৃঢ় যুক্তি—শিক্ষিত হওয়া মানে সাংসারিক কর্তব্যে অবহেলা নয়, বরং একজন শিক্ষিত নারী অনেক বেশি সুশৃঙ্খলভাবে সংসার ও সন্তান পালন করতে পারেন। যখন কাদম্বিনী গাঙ্গুলিরা ডাক্তার হওয়ার লড়াই লড়ছিলেন, তখন এই পত্রিকাই দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেছিল যে যোগ্য নারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা এবং কর্মক্ষেত্রের পথ উন্মুক্ত রাখা উচিত।

আজকের একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে যখন আমরা প্রচুর চাকচিক্যময় মেয়েদের পত্রিকা দেখি, তখন 'বামাবোধিনী'র প্রাসঙ্গিকতা যেন আরও বেশি করে অনুভূত হয়। বর্তমানের অনেক পত্রিকায় যখন উগ্র আধুনিকতার নামে অন্তঃসারশূন্য বিষয় পরিবেশন করা হয়, তখন 'বামাবোধিনী'র সেই যুগের চেয়েও এগিয়ে থাকা প্রগতিশীল চিন্তা আমাদের অবাক করে। এই বইটি কেবল একটি পত্রিকার ইতিহাস নয়, বরং বাংলার নারীদের অন্ধকারের খাঁচা ভেঙে শিক্ষার মুক্ত আকাশে ডানা মেলার এক জীবন্ত দলিল। ইতিহাসের সেই টাটকা স্বাদ আজও পাঠকদের প্রলুব্ধ করে এবং এক বিস্ময়কর সামাজিক রূপান্তরের গল্পের সাক্ষী হতে উদ্বুদ্ধ করে।

 

 

লেখক পরিচিতি

ড. শতাব্দী দাশ পেশায় জীববিজ্ঞানী হলেও নেশায় বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের নানা ধারায় উৎসাহী। বিজ্ঞান লেখিকা হিসাবেও তিনি সুপরিচিত। একাধিক জনপ্রিয় বিজ্ঞান গ্রন্থের রচয়িতা। দুই খণ্ডে প্রকাশিত 'বাঙালি মননে বিজ্ঞানচেতনা বিজ্ঞান- সাধনা' (প্রাক স্বাধীনতা পর্ব)-খুবই প্রশংসিত।

গোবরডাঙা গবেষণা পরিষদের দীপককুমার দাঁ বিবিধ সাংগঠনিক প্রয়াসকে নির্বিঘ্নে উত্তরণ ঘটিয়ে এটিকে পাঠকের নজরে উত্থাপিত করেছেন। 'বামাবোধিনী' পত্রিকা সেই সময়কালের আধুনিক নারী শিক্ষার প্রসারে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। বিষয়টিকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসায় দীপককুমার দাঁ মহাশয়ের প্রচেষ্টা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান-চর্চার কলেবরকে সমৃদ্ধতর করবে।

 

Product details

ড. শতাব্দী দাশ, দীপককুমার দাঁ

২৪০ পাতা

হার্ড কভার

গোবরডাঙা গবেষণা পরিষৎ

একদা উনিশ শতকের মধ্যভাগে বাংলার বুক যখন হাজার বছরের অন্ধকার আর কুসংস্কারে ঢাকা ছিল, তখন অন্তঃপুরের চারদেওয়ালে বন্দি নারীদের জীবনে এক বৈপ্লবিক আলোর দিশারি হয়ে দেখা দিয়েছিল 'বামাবোধিনী' পত্রিকা। ১৮৬৩ থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৬০ বছরের এই যাত্রা ছিল এক নিঃশব্দ বিপ্লবের ইতিহাস। সে এক কঠিন সময়, যখন মধ্যবিত্ত ঘরের বালিকাদের শিক্ষা শুরু হতেই বাল্যবিবাহের অভিশাপে তা থমকে যেত। সেই প্রতিকূল পরিবেশে জন এলিয়েট ড্রিংকওয়াটার বেথুন, পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কিংবা মদনমোহন তর্কালঙ্কারের মতো মনীষীরা যখন নারীশিক্ষার মশাল জ্বালালেন, তখন রক্ষণশীল সমাজ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে ফেটে পড়েছিল। এমনকি কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তও নারীশিক্ষাকে বিদ্রূপ করে ছড়া কেটেছিলেন। কিন্তু সেই সমস্ত ঝড়ঝাপটা উপেক্ষা করে উমেশচন্দ্র দত্তের সম্পাদনায় আত্মপ্রকাশ করল 'বামাবোধিনী', যার মূল লক্ষ্য ছিল নারীদের সংস্কারমুক্ত, মুক্তমনা ও যুক্তিবাদী হিসেবে গড়ে তোলা।

এই পত্রিকার পাতা ওল্টালে আজও এক আধুনিক মনন ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায় যা এককথায় অনবদ্য। আজকের দিনের জনপ্রিয় অনলাইন শিক্ষাভাবনার পূর্বসূরি হিসেবে এই পত্রিকার 'অন্তঃপুরে স্ত্রী শিক্ষা' প্রবর্তনকে চিহ্নিত করা যায়। পত্রিকাটির বৈশিষ্ট্য ছিল এর সহজ ও আকর্ষণীয় পরিবেশনশৈলী। এর পাতায় কেবল ঘরকন্না বা ধর্মকথা ছিল না, বরং তাত্ত্বিকতার মোড়ক ছাড়িয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিবেশিত হত পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূগোল, উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণিবিজ্ঞানের মতো জটিল বিষয়গুলি। এমনকি ছবি বা ডায়াগ্রামের সাহায্যে বিজ্ঞানকে মেয়েদের কাছে বোধগম্য করে তোলা হত। সে যুগের সামাজিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বিজ্ঞানের এই প্রচার ছিল সত্যিই এক বিস্ময়কর পদক্ষেপ।

'বামাবোধিনী'র আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার মেয়েরা নিজেদের মনের কথা লিখে পাঠাতে শুরু করলেন। কখনও নাম প্রকাশ করে, আবার কখনও বা নামবিহীন অবস্থায় তাঁরা কলম ধরলেন সমাজ সচেতনতা ও রাজনীতির নানা বিষয়ে। পত্রিকাটির পাতায় উঠে এল এক দৃঢ় যুক্তি—শিক্ষিত হওয়া মানে সাংসারিক কর্তব্যে অবহেলা নয়, বরং একজন শিক্ষিত নারী অনেক বেশি সুশৃঙ্খলভাবে সংসার ও সন্তান পালন করতে পারেন। যখন কাদম্বিনী গাঙ্গুলিরা ডাক্তার হওয়ার লড়াই লড়ছিলেন, তখন এই পত্রিকাই দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেছিল যে যোগ্য নারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা এবং কর্মক্ষেত্রের পথ উন্মুক্ত রাখা উচিত।

আজকের একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে যখন আমরা প্রচুর চাকচিক্যময় মেয়েদের পত্রিকা দেখি, তখন 'বামাবোধিনী'র প্রাসঙ্গিকতা যেন আরও বেশি করে অনুভূত হয়। বর্তমানের অনেক পত্রিকায় যখন উগ্র আধুনিকতার নামে অন্তঃসারশূন্য বিষয় পরিবেশন করা হয়, তখন 'বামাবোধিনী'র সেই যুগের চেয়েও এগিয়ে থাকা প্রগতিশীল চিন্তা আমাদের অবাক করে। এই বইটি কেবল একটি পত্রিকার ইতিহাস নয়, বরং বাংলার নারীদের অন্ধকারের খাঁচা ভেঙে শিক্ষার মুক্ত আকাশে ডানা মেলার এক জীবন্ত দলিল। ইতিহাসের সেই টাটকা স্বাদ আজও পাঠকদের প্রলুব্ধ করে এবং এক বিস্ময়কর সামাজিক রূপান্তরের গল্পের সাক্ষী হতে উদ্বুদ্ধ করে।

 

 

লেখক পরিচিতি

ড. শতাব্দী দাশ পেশায় জীববিজ্ঞানী হলেও নেশায় বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের নানা ধারায় উৎসাহী। বিজ্ঞান লেখিকা হিসাবেও তিনি সুপরিচিত। একাধিক জনপ্রিয় বিজ্ঞান গ্রন্থের রচয়িতা। দুই খণ্ডে প্রকাশিত 'বাঙালি মননে বিজ্ঞানচেতনা বিজ্ঞান- সাধনা' (প্রাক স্বাধীনতা পর্ব)-খুবই প্রশংসিত।

গোবরডাঙা গবেষণা পরিষদের দীপককুমার দাঁ বিবিধ সাংগঠনিক প্রয়াসকে নির্বিঘ্নে উত্তরণ ঘটিয়ে এটিকে পাঠকের নজরে উত্থাপিত করেছেন। 'বামাবোধিনী' পত্রিকা সেই সময়কালের আধুনিক নারী শিক্ষার প্রসারে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। বিষয়টিকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসায় দীপককুমার দাঁ মহাশয়ের প্রচেষ্টা বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান-চর্চার কলেবরকে সমৃদ্ধতর করবে।

 

You might like these